দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে ইন্টারনেট সংযোগের ওপর বিধিনিষেধ ১০০ দিন ছাড়িয়েছে। গত ৫ জুন থেকে অঞ্চলটির মোবাইল ডেটা ও ব্রডব্যান্ড সেবা ব্যাপকভাবে সীমিত রয়েছে। নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। স্বাধীন ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকসও ৫ জুন থেকে আংশিক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কথা জানিয়েছে।
তিন ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এবং নতুন সরকার গঠিত হলেও ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি। সর্বশেষ ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হয় ১০ আগস্ট। তবে অঞ্চলটির বিভিন্ন এলাকায় এখনো মোবাইল ডেটা ও ব্রডব্যান্ড সেবা স্বাভাবিক হয়নি।
দীর্ঘস্থায়ী এই ইন্টারনেট সংকটে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। অনলাইন ব্যাংকিংয়ের ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়েছে; ইন্টারনেটের সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ ব্যাহত হয়েছে এবং ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে হয়েছে।
যেভাবে শুরু আন্দোলন
স্থানীয় নির্বাচনের আগে গত ৫ জুন থেকে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে অস্থিরতা শুরু হয়। ওই দিন কর্তৃপক্ষ জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সংগঠনটি অঞ্চলটির আইনসভায় ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসরত শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিলসহ বিভিন্ন নির্বাচনী ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল।
পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত কাঠামোর অধীনে পরিচালিত। এর নিজস্ব প্রধানমন্ত্রী ও ৪৫ সদস্যের আইনসভা রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি আসন পাকিস্তানের অন্যান্য এলাকায় বসবাসরত কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। এই আসনগুলোর ভূমিকা ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।
আন্দোলন তীব্র হলে কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভ দমনে অভিযান চালায়। ২৭ জুলাই সহিংস সংঘর্ষে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন স্থানীয় সূত্রের হিসাবে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে সাতজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অস্থিরতার কারণে নির্ধারিত ২৭ জুলাইয়ের নির্বাচন তিন ধাপে আয়োজন করা হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে বিক্ষোভের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কয়েকটি এলাকায় ভোটগ্রহণও অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে অন্যান্য এলাকার ফলাফলের ভিত্তিতে নতুন আঞ্চলিক সরকার গঠিত হয়।
ইন্টারনেট বন্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও উদ্বেগ জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জুনে ইন্টারনেট বন্ধ, গ্রেপ্তার এবং বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।
সূত্র: আল জাজিরা